• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন |

ডিসেম্বরে পৌর নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ইসি

নির্বাচনসিসি ডেস্ক: ডিসেম্বর মাসে দেশের ২৪৫ পৌরসভার নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য নির্বাচনী এলাকাভুক্ত শিাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য চিঠি দেয়াসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। কিন্তু বিধিমালা হাতে না পাওয়ায় গতকাল রোববার পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। ফলে ডিসেম্বরে পৌরসভাগুলো নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, সংশোধিত স্থানীয় সরকার আইনে দলীয়ভাবে এ নির্বাচন করতে চায় ইসি। এ জন্য তড়িঘড়ি করে সংশোধিত আইনের আলোকে বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধন করে তা মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে এড়িয়ে ইসির তৈরি এ বিধিমালা থেকে বেশ কিছু জিনিস বাদ দেয় আইন মন্ত্রণালয়। পরে আইনটির অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদে আইন হিসেবে পাস করতে চায় সরকার। ফলে ইসির সংশোধিত বিধিমালা ফের পরিবর্তন আনতে হবে।
ইসি কর্মকর্তারা বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে পরিকল্পনা ইসির ছিল, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী জানুয়ারিতে হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে নতুন ভোটারদের পৌর নির্বাচনে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কথাও ভাবছে ইসি। ফলে প্রথম ধাপে পৌর নির্বাচন বিলম্ব হলে তা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকেও পিছিয়ে দিতে পারে।
এর আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, ১৮ নভেম্বর স্থানীয় সরকার আইনের সংশোধনী সংসদে পাস হবে। ফলে এ আইনানুযায়ী বিধিমালা ও আচরণবিধি তৈরি করতে ইসির আরো সময়ের প্রয়োজন। নিয়মানুযায়ী বিধি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং করে আনতে হয়। ফলে চলতি সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার যে পরিকল্পনা করেছিল তা বাস্তবায়ন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এত দিন ধরে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হলেও সম্প্রতি আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এর ফলে রাজনৈতিক নেতাদের সংসদ নির্বাচনের মতোই নৌকা, ধানের শীষ, লাঙলের মতো প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ডিসেম্বরে পৌর নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় এ েেত্র সংসদ বসার জন্য অপো না করে অধ্যাদেশ জারি করে আইন কার্যকর হয়। সংশোধিত আইনানুযায়ী, মেয়র, সাধারণ ও সংরতি কাউন্সিলর পদে দল মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে অংশ নেবেন। দলের বাইরে কেউ ভোট করতে চাইলে তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হবে।
ইসি ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ আকার জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই অধ্যাদেশটি বাতিল করে আইন আকারে সংশোধনী পাস করতে চায় সরকার। সংশোধনী আইন আকারে পাস হলে স্থানীয় সরকারের সব স্তরে (সিটি, পৌর, উপজেলা, ইউপি) মেয়র বা চেয়ারম্যান পদে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়ার সুযোগ থাকবে। কাউন্সিলর, সদস্য, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আগের মতো নির্দলীয়ভাবে প্রার্থিতার সুযোগ থাকবে।
ডিসেম্বরে নির্বাচন উপযোগী ২৪৫ পৌরসভায় মোট পদ থাকবে প্রায় তিন হাজার ৭৬০। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদ দুই হাজার ৬৪০টি ও সংরতি ৮৮০টি। সব পদ দলীয় হলে প্রতিটি পদে নাম, প্রতীকসহ ব্যালট ছাপাতে হবে। কাউন্সিলর বাদ পড়লে শুধু মেয়রদের ২৪০টি পদে দলীয় প্রতীক থাকবে। নির্বাচনে ভোটগ্রহণের কেন্দ্র ও ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে মাঠপর্যায়ে চিঠি দিয়েছে ইসি।
নয়াদিগন্ত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ